ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:১৫ পিএম

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব ও শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষক সমাজের ঐতিহাসিক সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন নীতিনির্ধারকরা। গত বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জমজমাট ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বর্তমান ও অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং শিক্ষক সমাজের অধিকার নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, অতীতে দেশ পরিচালনা করা ফ্যাসিবাদী সরকার নানা ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অদূরদর্শী নীতির আশ্রয় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রাপ্য আর্থিক ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে দেশের প্রবীণ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক সমাজ চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপনের মুখোমুখি হয়েছিল।


অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান যে, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ও দূরদর্শী পদক্ষেপে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বন্ধ থাকা সেই ভাতা পুনরায় চালু করা হয়। সরকারের এই দ্রুত ও ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষক মহলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা ও ক্ষোভের অবসান ঘটে এবং তাদের মুখে আবার স্বস্তির হাসি ফেরে। প্রবীণ শিক্ষকদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষায় আন্তরিকভাবে বদ্ধপরিকর।


আলোচনা সভার মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহদী আমিন বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের কালরাত্রি ও শিক্ষক নিপীড়নের করুণ চিত্রও জাতির সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুরো সময়জুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং দলীয়করণের রাজনীতির শিকার হয়ে বহু শিক্ষক বঞ্চনা, হয়রানি ও নানা ধরনের দমনপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন। এই দুঃসময়ে যেসব শিক্ষক সাহস নিয়ে নিজেদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখেছেন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের সেই আত্মত্যাগ ও অবমূল্যায়নকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। শুধু তাই নয়, ফ্যাসিবাদের আমلজুড়ে বিভিন্নভাবে নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষক সমাজকে কীভাবে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা যায় এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


শিক্ষা খাতের সামগ্রিক সংস্কার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন যে, একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হলো মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা। আর এই শিক্ষা ব্যবস্থার সফল রূপায়ণের প্রধান কারিগর হলেন শিক্ষকরা। তাই শিক্ষা ও শিক্ষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বর্তমান সরকার। শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিদাওয়া এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের তরফ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও বিশিষ্টজনদের আশ্বস্ত করেন।


এই আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং শিক্ষা খাতের নানা সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের এমন আন্তরিক সদিচ্ছা ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দেশের শিক্ষক সমাজ তাদের হৃত গৌরব ফিরে পাবে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক ও গতিশীল পরিবর্তন আসবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে দেশের শিক্ষানীতি ও শিক্ষক কল্যাণে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর