ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্য সরকার নাকি আবার নির্বাচন? ইসরায়েলের সামনে এখন ৩টি পথ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন আসামি হাজিরা ডিজিটাল করতে পারলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে: আইনমন্ত্রী ময়নাতদন্ত ছাড়া তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সুইসাইড নয়, পরিকল্পিত হত্যাঃ পাইলট তাহসিফের বাবার বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৩০০ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিবকে ওএসডি ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় যুব মেলা স্থগিত

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ পানি, এখনই সঠিক ব্যবস্থাপনা জরুরি: ড. মঈন খান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১৩ পিএম

বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকট বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা। এই সংকট মোকাবিলায় কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে বর্তমান সময় থেকেই পানি সম্পদের সর্বোত্তম ও বিজ্ঞানসম্মত সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যে, পানির সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতি এক ভয়ংকর ও নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। তাই দেশের যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে পানির গুরুত্ব এবং এর টেকসই ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর নিজ অফিসকক্ষে ইউনিসেফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে তিনি এই সুদূরপ্রসারী মন্তব্য করেন। বৈঠকে দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব সফলভাবে মোকাবিলা করা এবং বিশেষ করে উপকূলীয় লবণাক্ততা আক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।


উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউনিসেফ বাংলাদেশের রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাড ইন্টেরিম গিলিয়ান মেলসপ এবং ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল আব্রিউ-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের মধ্যে বিশ্বব্যাংক এবং ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উক্ত বৈঠকে উপস্থিত থেকে দেশের পানি খাতের উন্নয়ন নিয়ে মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে জানানো হয় যে, বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল আকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।


পানি খাতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পানি মানবজাতির জীবন, অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি ও গভীরভাবে যুক্ত একটি মৌলিক উপাদান। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসীর জন্যই ভবিষ্যতে পানি ব্যবস্থাপনা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মহাসংকট এড়াতে উন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, প্রায় ৬০ বছর আগে সুইডেনের মতো উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের নেতিবাচক পরিণতি উপলব্ধি করতে পেরেছিল। বাংলাদেশও বর্তমান সময়ে ঠিক একই ধরনের বাস্তব ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে ওই সকল দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদেরও একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।


দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও শিল্পায়নের সঙ্গে পানিসম্পদের গভীর আন্তঃসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান যে, আমাদের দেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত বিশেষ করে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে পানির ব্যবহার হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি অপরিকল্পিত শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও দূষিত পদার্থের কারণে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।


এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পানিসংক্রান্ত নানা জটিল সংকট বিরাজ করছে। টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, তবে সেই উন্নয়ন যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্টদের সর্বদাই সতর্ক থাকতে হবে। মন্ত্রী আরও জোরালোভাবে বলেন যে, কেবল নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি এবং একটি সুস্থ, দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।


উক্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর