রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকা মহাখালী বাস টার্মিনাল চত্বরে একটি এসি বাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। টার্মিনালের ঠিক পাশেই পার্কিং করে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তাৎক্ষণিক ও সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বুকে এ ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটের দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালের সংলগ্ন এলাকায় ‘প্রাইম’ পরিবহনের ওই এসি বাসটিতে আগুন লাগে। বাসটি দেশের উত্তরাঞ্চলের শেরপুর জেলা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে নামানোর পর মহাখালী টার্মিনালে এসে পৌঁছায়। বাসটি টার্মিনালের নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করে দাঁড় করানোর পরপরই হঠাৎ করেই এর ভেতরে থাকা এসি কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কালো ধোঁয়া ও শিখা পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে, যা টার্মিনালে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
জরুরি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিস অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ পেয়ে দমকল বাহিনীর দুটি সুসজ্জিত ইউনিট দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ফায়ার কর্মীদের অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও ক্ষিপ্রতার কারণে মাত্র ১৪ মিনিটের মাথায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন গণমাধ্যমকে জানান যে, দুপুর ঠিক দুইটার দিকে ফায়ার কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
প্রাথমিক অবস্থায় আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ বা এর ফলে সংঘটিত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। তবে ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, বাসটি শেরপুর থেকে নিরাপদে মহাখালী টার্মিনালে পৌঁছানোর পর মূলত বাসের এসি সিস্টেম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা প্রাথমিক অনুমান করছেন। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য প্রধান কারণ হিসেবে বাসের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে।
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, মহাখালীর এই আকস্মিক বাসে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা আগেই নিরাপদে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে অপ্রত্যাশিত এই আগুনে ‘প্রাইম’ পরিবহনের বাসটির ভেতরের মূল্যবান সাজসজ্জা ও এসি যন্ত্রাংশ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। জনবহুল মহাখালী টার্মিনালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোর নিয়মিত ফিটনেস ও বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মালিকপক্ষ ও চালকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।