ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১১ পিএম

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল চিকিৎসা কেন্দ্র মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও গতিশীল ও উন্নত করতে সর্বাত্মক সরকারি ও ব্যক্তিগত সহযোগিতার জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, মুগদা হাসপাতালের কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পূবালী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রদত্ত একটি আধুনিক মাইক্রোবাস হস্তান্তর এবং নতুন কালেকশন বুথ ও ইলেকট্রনিক্স বুথ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাব্যঞ্জক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পূবালী ব্যাংকের দেওয়া এই আধুনিক এটিএম বুথ ও মাইক্রোবাস হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রমে গতি আনবে। অনলাইন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বিড়ম্বনা বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং জরুরি সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি ‘নিট গ্রুপ’-এর পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধপত্র সহজে আনা-নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ভ্যান উপহার দেওয়া হয়েছে, যা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা আরও সুগম করবে।


হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সেবার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, চিকিৎসকদের সাহসিকতা ও রোগীদের প্রতি তাদের অকৃত্রিম দায়িত্ববোধের কারণেই মুগদা হাসপাতাল আজ সারা বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি গৌরবোজ্জ্বল ও উন্নত অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আস্থার সাথে চিকিৎসা নিতে ছুটে আসছেন। বিশেষ করে ঢাকা-৯ সংসদীয় এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রধান আশা-ভরসার একমাত্র কেন্দ্রস্থল হলো এই মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সাধারণ মানুষ ন্যূনতম খরচে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সর্বত্তম চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসনের সরাসরি দিকনির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুগদা হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ডেঙ্গু মোকাবেলার সংকটময় পরিস্থিতিতে মুগদা হাসপাতাল যে সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তার উচ্চ প্রশংসা করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় তাৎক্ষণিকভাবে ২৫০ শয্যার বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কঠিন দায়িত্বটি মুগদা হাসপাতাল অত্যন্ত সফলভাবে কাঁধে তুলে নিয়েছে, যা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সেভাবে করার সাহস দেখায়নি।

বেসরকারি খাতের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বা সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান যেন তারা তাদের বার্ষিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মুগদা হাসপাতালকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যেই হাসপাতালের বাকি অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং সেই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সশরীরে উপস্থিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের হাসপাতালের জন্য শুধু দক্ষ চিকিৎসক বা যন্ত্রাংশই যথেষ্ট নয়, বরং রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানরা যখন এভাবে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসে, তখন গোটা স্বাস্থ্য খাতের চিত্র পাল্টে যায়। সাধারণ মানুষ যেন দ্রুত, সহজে ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর