বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই এক বিশেষ সরকারি
সফরে রাজকীয় সৌদি আরব যাচ্ছেন। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই সফরের রাষ্ট্রীয়
আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তা সাদরে গ্রহণ
করেছেন।
আজ
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬)
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে
প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত
করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক যৌথ এ সেমিনারের আয়োজন
করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ
ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।
পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী জানান, সফর বিনিময়ের অংশ হিসেবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও নিজে বাংলাদেশ সফরের জোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে তাঁকে ঢাকায় আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে আমাদের সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।”
দ্বিপক্ষীয়
সামরিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা
সহযোগিতা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা মেরিটাইম সিকিউরিটির
ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সৌদি আরবের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত অংশীদার।
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যেই বর্তমানে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা
চলছে। এই চুক্তি যদি
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে থাকে এবং আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে এটিকে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবেই দেখছি।
তিনি
আরও যোগ করেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল দক্ষতা
যদি মুসলিম দেশগুলোর সেবা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায়
রাখতে অবদান রাখতে পারে, তবে সে বিষয়ে ইতিবাচক
সিদ্ধান্ত নেওয়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসী
বাংলাদেশি কর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার
সুনিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শ্রম নিয়োগ খাত নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের পারস্পরিক
স্বার্থ রক্ষায় সৌদি সরকারের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমরা চাই সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের কর্মীদের কেবল সাধারণ শ্রমের উৎস হিসেবে না দেখে, তাঁদের
দেশটির আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করুক।
উক্ত
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মো. নজরুল
ইসলাম। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম
রিদওয়ানুর রহমান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীসহ কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা।