সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে দেশটির সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আকাশপথে মারাত্মক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে এবং শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী অন্তত ৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন শনিবার ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আকাশে থাকাকালেই রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার খবর পায়। চরম ঝুঁকি এড়াতে ফ্লাইটটি মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে এবং পরবর্তীতে নিরাপদে ঢাকায় ফিরে আসে।
উল্লেখ্য, শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নজিরবিহীন মিসাইল হামলায় ২ প্রবাসীবান্ধব বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। হতাহতদের মধ্যে মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও রয়েছেন। এর পরপরই বিমানবন্দরটির সব ধরনের বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে এটি চতুর্থবারের মতো হুথি হামলা। এর আগে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো বিমান সংস্থা কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হবে। এই হুমকির পরপরই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি ঘটায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার প্রবাসী ও যাত্রী এখন চরম দুর্ভোগ এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন।