ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

সড়কে মৃত্যুর নতুন নাম মোটরসাইকেল

সাড়ে ছয় বছরে দুর্ঘটনায় নিহত সাড়ে ১৫ হাজার


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

সহজ কিস্তিতে সুবিধা, গণপরিবহনের দীর্ঘস্থায়ী সংকট এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় সারাদেশে দ্রুত বাড়ছে দু চাকার বাহন মোটরসাইকেলের ব্যবহার। কিন্তু এই সুবিধাজনক বাহনটিই এখন সড়কে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে সারা দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই সময়ে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন মানুষ।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের মোট সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। এর মধ্যে কেবল ঢাকা মহানগরীতেই গত মে মাস পর্যন্ত নিবন্ধিত ছিল ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৪টি মোটরসাইকেল। তবে প্রতিদিন ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনভিপ্রেত বাইকের সমন্বয়ে প্রকৃতপক্ষে ঠিক কত লাখ মোটরসাইকেল রাজধানী রাজপথে চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। বিপুলসংখ্যক এই বাহন, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার নজিরবিহীন প্রবণতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। বিশেষ করে উল্টো পথে চলা, ফুটপাতে বাইক তুলে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং সড়ক বিশৃঙ্খলাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে ঠেকিয়েছে।


পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহত ও আহত চালকদের একটি বিরাট অংশই কিশোর ও তরুণ। সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের মোট মোটরচালিত যানবাহনের প্রায় ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। অনভিজ্ঞ কিশোর-তরুণরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিজেদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। সড়ক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাবের কারণে এই শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।


রাজধানী ঢাকার দুর্ঘটনা পরিস্থিতিও আরও আশঙ্কাজনক। সাড়ে ছয় বছরে ঢাকায় ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল মোটরসাইকেল আরোহীই ছিলেন ৫৩৬ জন, যা মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। পাশাপাশি রাতে দূরপাল্লার বাস ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সময় নিহতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করে বলেছেন, "আইন সবার জন্য সমান। কোনো পুলিশ সদস্য কিংবা সরকারি কর্মকর্তা আইন অমান্য করলেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।" তবে কেবল পুলিশের প্রশাসনিক কড়াকড়ি নয়, বিআরটিএ-তে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের সচেতনতাই পারে সড়ককে ঝুঁকিমুক্ত করতে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর