আগামী তিন দিনের মধ্যে রাজধানী ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন অটোরিকশা চালকেরা। পূর্বঘোষিত সিডিউল ছাড়া অনভিপ্রেত ডাম্পিং ও উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রোববার সকালে মোহাম্মদপুরের ব্যস্ততম চার রাস্তার মোড় অবরুদ্ধ করে বিশাল বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন চালক ও মালিকেরা।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে মোহাম্মদপুরের চার রাস্তার মোড়ে শত শত ব্যাটারিচালিত ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক একত্রিত হয়ে অবস্থান নেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা, ধানমন্ডি ও গাবতলীমুখী প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত চালকদের অভিযোগ, প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রতিদিন তাঁদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন রিকশাগুলো ডাম্পিং করছে। অনেক সময় সামান্য ইউটার্ন নিতে গেলেও ডাম্পিংয়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। ডাম্পিং করা গাড়ি ছাড়াতে ডাম্পিং স্লিপ হাতে নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরলেও ট্রাফিক পুলিশ শেষ পর্যন্ত গাড়ি ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিক্ষুব্ধ চালকেরা। অনেকে চড়া সুদে ঋণ ও কিস্তিতে টাকা নিয়ে অটোরিকশা কিনেছেন, কিন্তু গাড়ি আটকে রাখার কারণে কিস্তি পরিশোধ ও পরিবারের আহার জোগানো তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চালকদের দাবি, মূল বা মহাসড়ক বাদ দিয়ে তাঁদের জন্য নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ শাখা সড়কগুলোতে অবাধে চলাচল করতে দিতে হবে। আন্দোলনরত অটোরিকশা চালকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার নির্দেশ দিয়েছে মিরপুর রোডে অটোরিকশা উঠবে না, আমরা উঠি না। কিন্তু এখন ধানমন্ডির ভেতরের গলির মুখে গেলেও গাড়ি ডাম্পিং করা হচ্ছে। পেটে ভাত না থাকলে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না।"
অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ট্রাফিক ও থানা পুলিশের একাধিক দল। তাঁরা আন্দোলনরত চালকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ অটোরিকশা চালকেরা।