সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অন্যতম প্রধান আকাশপথ জেদ্দা বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার কারণে জেদ্দা থেকে নির্ধারিত ঢাকাগামী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো ছাড়তে না পারায় শত শত প্রবাসী ও বাংলাদেশি যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম উৎকণ্ঠা ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জেদ্দা বিমানবন্দরে নিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, "সার্বিক নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে আমরা এই মুহূর্তে জেদ্দা থেকে কোনো বিমান ছাড়তে পারছি না। পরিস্থিতির অবনতির কারণে এখনো যাত্রীদের বোর্ডিং কার্যক্রম পর্যন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি।" বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার মধ্যরাতে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসীবান্ধব বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। ওই হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সকল ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশ থেকেও ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারের অন্তত পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এমনকি মাঝ আকাশে হামলার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ওমানের মাস্কাট হয়ে ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
রিয়াদের পর এবার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেদ্দা বিমানবন্দরও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে এক নজিরবিহীন ও শ্বাসরুদ্ধকর অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ওমরাহযাত্রী, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারী এবং হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক জেদ্দা ও ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনালে আটকা পড়ে মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দর এলাকায় না গিয়ে নিজ নিজ আবাসে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছে কতৃপক্ষ।