হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারে সোনাই নদীর তীরবর্তী মাছ বাজারের সড়কে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে সোনাই নদীর পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মাধবপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এ বাজারের নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এসব বর্জ্যের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ বাজারসংলগ্ন সড়কে দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের বাসাবাড়ি থেকে উৎপন্ন বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে ময়লা জমে থাকছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাধবপুর বাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার পাশেই সোনাই নদীর তীরে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকা দুঃখজনক। এতে একদিকে যেমন বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীতীরের পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছে।
তাঁদের দাবি, দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং বাজারে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা জরুরি। শুধু একবার পরিষ্কার করলেই হবে না, যাতে আবারও সড়কের পাশে বর্জ্য জমতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশকর্মী রাহেলা বেগম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের নালা-নর্দমায়ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এসব বর্জ্য পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা বন্ধ করতে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজার ও সোনাই নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, মাধবপুর বাজারের সোনাই নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এসব উদ্যোগ কার্যকর না হলে নদীতীরের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাজারে আসা মানুষের দুর্ভোগও অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।