ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

দুমকীতে ৭০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:০৯ পিএম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৭০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে শিক্ষা উন্নয়ন সংঘ, আঙ্গারিয়া বন্দর। শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষার প্রসারে সংগঠনটির উদ্যোগে রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় দুমকী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। উৎসবমুখর পরিবেশে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের সভাপতি ও দুমকী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাফায়েত হোসেন সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টমেড লিমিটেডের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রোটারিয়ান প্রকৌশলী এম. এ. হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন, প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি জসিম উদ্দিন সুমনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা গাজী বাইজিদ মাহমুদ, নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম শাওন, মো. ফিরোজ মাহমুদ নাসির, ওবায়দুল ইসলাম রাকিব, গাজী আতিকুর রহমান শাওন ও মনোয়ার ইসলাম মুন্না। সংগঠনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আসিকুর রহমানসহ অন্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আসিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা মোবাইল আসক্তি। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অনেকেই অজান্তে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে। এ সময় তিনি মোবাইলের অপব্যবহারকে ‘দাজ্জালের ফিতনা’র সঙ্গে তুলনা করে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত ও ইতিবাচক ব্যবহারের আহ্বান জানান।

শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংগঠনটির শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. সাফায়েত হোসেন সাগর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কারও লক্ষ্য যদি ৪০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো হয়, তাহলে বর্তমান অর্জন সেই পথের মাত্র ১০০ মিটার অতিক্রম করার সমান। তাই আত্মতুষ্টিতে না ভুগে অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করতে পারাকে তিনি সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে নিজের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন।


সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও ব্যাংক কর্মকর্তা গাজী আতিকুর রহমান শাওন জানান, ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ শিক্ষা উন্নয়ন সংঘের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজেদের অর্থায়নে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে দুমকী উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।


সংবর্ধনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন কৃতি শিক্ষার্থী রুমানা জুই। তিনি বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের শেষ সাফল্য নয়, বরং নতুন পথচলার সূচনা। সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হলে এখন থেকেই পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হতে হবে।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। তাঁদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অর্জিত জ্ঞান দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে।


আলোচনা শেষে অতিথিরা ৭০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকেরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসাহ দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার প্রসার ও মেধার বিকাশে সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর