সিরিয়ার
সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে
সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের সৈন্য প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত সোমবার জাতিসংঘের
নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া বিষয়ক ডেপুটি বিশেষ দূত ক্লাউডিও কর্ডোন এ কথা বলেন।
জাতিসংঘের মহাসচিবের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সতর্ক করেন যে, সিরিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক তৎপরতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।
নিরাপত্তা পরিষদে
কর্ডোন জানান, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সেখানে ব্যাপক নির্মাণকাজ, তল্লাশি চৌকি স্থাপন এবং আটকের মতো ঘটনা ঘটছে। গত ৫ অক্টোবর
ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছে এক বেসামরিক নাগরিককে
গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং বর্তমানে অন্তত ৪৯ জন ব্যক্তি
ইসরায়েলের হেফাজতে রয়েছেন।
২০২৪
সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার
আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে নিরাপত্তার
অজুহাতে দখলীকৃত গোলান মালভূমির বেসামরিক বাফার জোনে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে ইসরায়েল। দামেস্ক ইতোমধ্যে দখলীকৃত এলাকা থেকে পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি করে ১৯৭৪ সালের চুক্তির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রসঙ্গে কর্ডোন
জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছানোর একমাত্র পথ হলো কূটনীতি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির
বিষয়ে ক্লাউডিও কর্ডোন জানান, মুদ্রা অবমূল্যায়ন ও জ্বালানি খরচ
বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬২০ মিলিয়ন ইউরো এবং বিশ্বব্যাংকের ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাথমিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘ এখন সিরিয়া সরকারের সমন্বয়ে পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের ওপর
আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
জাতিসংঘের সহকারী
মহাসচিব মোহাম্মদ ইয়াহিয়া সতর্ক করে বলেছেন, ৩.৮ মিলিয়নের
বেশি শরণার্থী ফিরে আসলেও এখনও ৫৫ লক্ষের বেশি
সিরীয় বাস্তুচ্যুত হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৭
লাখ ৭০ হাজার মানুষ
ক্যাম্পে বসবাস করছে, যার তিন- চতুর্থাংশই নারী ও শিশু।
শিক্ষা
ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জর্জ বাতাহ জানান, দেশে ২৭ লাখ শিশু
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
অকার্যকর। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক পরিচালক হাজির মালিম সতর্ক করে বলেন, অর্থায়নের অভাবে একটি পুরো প্রজন্ম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা সিরিয়ার
রাজনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত
অগ্রগতির প্রশংসা করছে।