রাজধানীর
ফুটপাত ও প্রধান সড়কগুলো
পথচারীদের যাতায়াতের জন্য দখলমুক্ত রাখতে দুই সিটি করপোরেশন একের পর এক অভিযান
চালালেও তার কোনো স্থায়ী প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অভিযান চালুর পরপরই ফুটপাত খালি হয়ে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, উচ্ছেদকারী দল স্থান ত্যাগ
করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল
করে পসরা সাজাচ্ছেন হকাররা।
ফলে
উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের এক
অসীম চক্রে আটকে পড়েছে ঢাকার ফুটপাত ব্যবস্থাপনা। নীলক্ষেত, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, ফার্মগেট ও মিরপুরের মতো
ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযানের পরেও আগের চিত্রেই ফিরে যাচ্ছে সড়কগুলো।
ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম দায়িত্বে আসার পর হকারদের শৃঙ্খলায়
ফেরাতে নীতিমালার পাশাপাশি উচ্ছেদ জোরদার করেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর অভিযান চালিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
রাজধানীতে
প্রায় ছয় লাখ হকারের
বিপরীতে দুই সিটি করপোরেশন মিলে মাত্র চার হাজার হকারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। বিআইপির সহসভাপতি শেখ মেহেদী আহসান ও নগর পরিকল্পনাবিদ
স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও বিকেন্দ্রীভূত পরিকল্পনা
ছাড়া এভাবে নাটকীয় অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
ফুটপাত
দখলের পেছনে চাঁদা এবং প্রশাসনিক জটিলতাকেও দায়ী করছেন সং্লিষ্টরা। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ জানান, সরকার পরিবর্তনের পর চাঁদা আদায়ের
নতুন বন্দোবস্ত চালুর প্রস্তুতি হিসেবে এসব উচ্ছেদ ও দখল চলছে
এবং সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়া হকার সমস্যার নিরসন সম্ভব নয়। সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন ও তদারকির অভাব
থাকায় রাজধানীর সড়কগুলোতে হকার ও প্রশাসনের এই
ইঁদুর-বিড়াল খেলা কবে শেষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন
থেকে যাচ্ছে।