সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম নিজ কার্যালয়ে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ১০-১১ জন ব্যক্তি ভবনের ভেতরে আটকে ছিলেন এবং আন্দোলনকারীরা রাতভর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি বের না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যের পাশাপাশি চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন। সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানান।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ ভবনটিতে প্রবেশ করে প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় (১৭০/১০০ মিমি পারদ) পেয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি নিজে সুস্থ থাকলেও ভেতরে থাকা দুইজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় সবাই ক্লান্ত ও অসুস্থ বোধ করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাবেক উপাচার্যকে অপসারণের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। ফলে তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।