রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেওয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গ্রাফিতিতে কালো রং লেপে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মারজিয়া খন্দকার রিমি ও মো. সুজন মিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দুই দিনের নিবিড় পুলিশি রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আসামিদের পুনরায় আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হলে শুনানি শেষে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। একই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত অন্য দুই আসামি ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস ও মো. সাকিবুস হাসান এখনও রিমান্ডে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি রয়েছেন।
এর আগে গত রবিবার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত শুনানি শেষে সাকিবুস ও আয়াসকে তিন দিন এবং রিমি ও সুজনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য উসকানিদাতা, আড়ালের পরিকল্পনাকারী এবং এ কাজের অর্থের যোগানদাতাদের শনাক্ত করতেই মূল আসামিদের মুখোমুখি বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের আবশ্যকতা দেখা দেয়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশের রিমান্ড নথি থেকে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশে ‘সংলাপ ফোরাম’-এর ব্যানারে চার আসামি একত্র হয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করেন। সেখানে সংগঠনটির সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে সরাসরি কালো রং লেপে দেন। তাদের এমন বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চরমভাবে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের মূল মদতদাতাদের বিষয়ে তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ঘটনার সময় শাহবাগ থানা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর কয়েকজন সহযোগী স্থান থেকে সটকে পড়ে। অপরাধে যুক্ত আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধে তাদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আইনি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।