দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে সরকার। দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অতীতে সংঘটিত কোনো অপরাধ বা কর্মকাণ্ড নিয়ে সামান্যতম অনুশোচনা কিংবা অনুতপ্তবোধ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে রাজপথে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনা এবং বিদেশে দেশের নাগরিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থান দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি এবং সাম্প্রতিক সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব স্পষ্ট বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সমঝোতার আলোচনা নিয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, 'বর্তমানে রাজনীতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের কোনো প্রকার রিকনসিলিয়েশন বা রাজনৈতিক সমঝোতার দূরতম সম্ভাবনা নেই। কারণ অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির মধ্যে কোনো ধরনের অনুতপ্তবোধ দেখতে পাওয়া যায়নি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সরকার নিজস্ব গতিতে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।
সম্প্রতি প্রবাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, 'যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কসহ বিদেশে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের ওপরে যেসব অনভিপ্রেত হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনায় জড়িত প্রতিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাহেদ উর রহমান বলেন, 'সরকার কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক আচরণের পক্ষে নয়। বরং দেশে ন্যায়বিচার শতভাগ নিশ্চিত করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে চায় ঢাকা।' আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করতেই সরকার তাকে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।