চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকায় মারাত্মক শারীরিক অস্বস্তি ও অসুস্থতা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। তবে চিকিৎসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন ও অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটানোর ফলে উপাচার্যসহ ভেতরে আটকা পড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত টানা প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ওই ভবনে তিনি অবস্থান করছেন। তার সাথে আরও ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীও অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে ভবনের ভেতরে যান। পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, স্যারের পালস এবং ব্লাড প্রেসার সম্পূর্ণ ঠিক আছে। তিনি কোনো ব্যথার কথা উল্লেখ না করলেও মূলত নিজের রক্তচাপ ও পালস কেমন আছে তা জানতে চেয়েছিলেন। পরীক্ষার পর তার ব্লাড প্রেসার পাওয়া যায় ১২০/৮০, যা স্বাভাবিক। চিকিৎসক আরও জানান, উপাচার্য নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন না, মাঝে মাঝে কেবল রক্তচাপ বাড়লে ওষুধ খান। তাকে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তি বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, একটানা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়েছে এবং তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন। পূর্বের রাতে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি। শুধু তিনি একা নন, প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে আটকে থাকা অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
জানা যায়, গত সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর মূল তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সাথে থাকা সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগ করার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন ছেড়ে বের না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একটানা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সোমবার রাতেই সাবেক দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যাদের মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমান উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের এই তালা খোলা হবে না। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, উপাচার্য স্বেচ্ছায় ভবন ছেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় পেলেও তা করেননি, তাই পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি অবরুদ্ধই থাকবেন। তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের সকালের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে চুয়েটের চলমান এই তীব্র সংকট নিরসন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জোর প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। একই সাথে চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন বুয়েট ও রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে চুয়েট ক্যাম্পাসে বর্তমানে চরম অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় তার পদে বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।