ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

বঙ্গোপসাগরে নজরদারিতে ৬০০ কোটি টাকার স্যাটেলাইট আনছে বিএসসিএল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৪:৩০ পিএম

সমুদ্রসম্পদ রক্ষা, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং বঙ্গোপসাগরে নিয়োজিত লাখ লাখ জেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত পদক্ষেপে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলসীমায় মাছ ধরার নৌযানের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা এবং গভীর সাগরে চলাচল তদারকিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক নতুন এক উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে গভীর সাগরে পথ হারানো বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া নৌযানকে দ্রুত চিহ্নিত করে উদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে কার্যকর নজরদারি চালাতে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার (এআইএস) উন্নত সংস্করণ ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাকাশে কম উচ্চতার চারটি বিশেষায়িত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও দুই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে এই পুরো নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।


২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধ সফল নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার বিশাল ভূখণ্ড পায় বাংলাদেশ। এই সুবিশাল জলসীমায় মৎস্য আহরণ, নিরাপত্তা জোরদার ও সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএসসিএলের নথিপত্রে চারটি স্যাটেলাইট, দুটি আধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশন এবং ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিজস্ব স্থানীয় সার্ভার অবকাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। সব সিদ্ধান্ত সময়মতো নেওয়া গেলে ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।


আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্য মতে, উপকূলীয় এলাকার ৫০ লাখের বেশি মানুষের প্রধান জীবিকা এই সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ। তবে সঠিক দিকনির্ণয় যন্ত্র না থাকায় প্রতিবছর ঝড়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে বা পথ হারিয়ে শত শত জেলে প্রাণ হারান কিংবা ভিনদেশের জলসীমায় আটকা পড়েন। লয়েডস রেজিস্টার ফাউন্ডেশনের একটি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কেবল নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে প্রতিবছর সাগরে ১ হাজার ৩৫০ জনেরও বেশি জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম জানান, স্যাটেলাইটভিত্তিক এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু হলে নৌযানের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং সাগরে মাছ ধরার নির্ধারিত নিয়মকানুন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।


বিএসসিএলের হিসাব অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট নজরদারির মাধ্যমে নৌযানের অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমবে এবং প্রতি যাত্রায় একটি নৌকা অন্তত ১৫০ লিটার ডিজেল সাশ্রয় করতে পারবে। এতে করে দেশে বছরে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫৯ কোটি টাকা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল এআইএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডারের (এসএআর) মতো প্রযুক্তিও যুক্ত করা উচিত, যাতে সংকেত বন্ধ রাখা অবৈধ নৌকাগুলোকেও সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর