নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশ থেকে পলায়ন করেও পরাজিত ও চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট শক্তি সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে নিজের অনুসারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে ক্রমাগত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই চিহ্নিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেই পোস্টে ড. ইউনূসের ওপর ঘটে যাওয়া হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, 'পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট তার সন্ত্রাসীদের সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় সম্পূর্ণভাবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই। সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরা যে মূলত ফ্যাসিস্ট, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ অব্যাহত রেখে তা সমগ্র বিশ্ববাসীকে বারবার জানিয়ে দিচ্ছে। শেইম...।'
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে হঠাৎ একদল লোক আগ্রাসী ভঙ্গিতে এগিয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত উচ্চে স্বরে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকে। ভিডিওতে তাদের ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্যে করে 'ইউ আর আ টেরোরিস্ট' ও 'হোয়াই ইউ কাম হিয়ার' বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ভিত্তিহীনভাবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের কাল্পনিক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন বিষোদ্গারমূলক স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে সঙ্গে থাকা সহকারীর সহায়তায় প্রবীণ ও অসুস্থ ড. ইউনূস শান্তভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যান। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।