ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

হাতের মুঠো থেকে জয় হাতছাড়া, আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ড্র


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:৩৯ পিএম

জয়ের একেবারেই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও শেষ বিকেলের ফিল্ডিং ব্যর্থতা আর ক্যাচ মিসের মাশুল গুনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে আফগানদের ৭টি উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের স্পষ্ট সুবাস পাচ্ছিল শান্ত বাহিনী। তবে স্পিনারদের ওপর ভর করে একাধিক সুযোগ তৈরি করা সত্ত্বেও বাংলাদেশি ফিল্ডারদের একের পর এক সহজ ভুল এবং সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয়ের হাতছানি থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আফগান ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের পর্বতসম ব্যাটিং লড়াইয়ের ওপর ভর করে অবিশ্বাস্য এক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।


আবুধাবিতে জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট, বিপরীতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ম্যাচের পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য থাকায় প্রথম থেকেই মূলত ম্যাচ ড্র করার দিকেই নজর দেয় আফগান ব্যাটাররা। সকালের সেশনে আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল এবং অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি বেশ দেখেশুনে টাইগার বোলারদের সামাল দেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে শহীদি ৩৩ বলে ২০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাময়িক মাঠ ছাড়লে প্রথম ধাক্কা খায় আফগানরা। লাঞ্চের ঠিক আগে ৭৮তম ওভারে পেসার এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বাউন্সারে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের চোখধাঁধানো ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ৬৯ বলে ৩৩ রান করা ইকরাম আলিখিল।


মধ্যাহ্নভোজের পর টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত একাধিক বোলিং পরিবর্তন এনেও দ্রুত উইকেট তুলতে পারছিলেন না। উইকেটে বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের স্পিন আক্রমণ প্রত্যাশিত টার্ন আদায় করতে ব্যর্থ হয়। তবুও পঞ্চম উইকেটে ৪০ রান করা ইসমত আলমকে ৬০ বলে ৪ রানে শান্তর ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। পরবর্তীতে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামা হাশমতউল্লাহ শহীদিসহ (৩৬) অন্য ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশ। অন্যপ্রান্তে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৩২ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ব্যক্তিগত ১১১ রানের অসাধারণ এক ম্যারাথন সেঞ্চুরি করে তাইজুলের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন।


আতালের বিদায়ের পর দিনের খেলা তখনও প্রায় সাড়ে ২৩ ওভার বাকি ছিল। সেই মুহূর্তে টেলএন্ডারদের পক্ষে এত দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব মনে হলেও ইতিহাস গড়ে আফগানিস্তান। অষ্টম উইকেটে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ অবিশ্বাস্য ধৈর্য ধরে ব্যাট করতে থাকেন। শেষ বিকেলে ক্যাচ ও রানআউটের একাধিক সহজ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। শেষ দিকে আহমাদজাই ৮৫ বলে ১৯ রান করে আউট হলেও জিয়াউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ৮০ বলে হার না মানা ৪৯ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলে দিন শেষ করেন কায়েস। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত জয়বঞ্চিত হয়ে ড্র মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের পক্ষে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর