ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি: ক্ষেপণাস্ত্র আসার পর খবর পেল ইউক্রেন


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:১৬ এএম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্বে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাস না পাওয়াকে চরম ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য প্রকৃতপক্ষে কে দায়ী, তা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, মঙ্গলবার কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো ‘দারনিতসিয়া কম্বাইন্ড হিট অ্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট’ (সিএইচপিপি-৪) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি একটি আবাসিক ভবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে যায় এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান যে, তাদের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এসব ক্ষেপণাস্ত্র কেবল তখনই শনাক্ত করতে পেরেছিল, যখন সেগুলো কিয়েভের একেবারে আকাশসীমার কাছাকাছি চলে এসেছিল। ইউক্রেনকে রক্ষা করতে এবং নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে পশ্চিমা মিত্রদের এই ধরনের নীরবতাকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলো ফেলে জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনা প্রমাণ করে যে রুশ সেনারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো প্রতিশ্রুতি বা বার্তা মানতে প্রস্তুত নয়। ইউক্রেন সব সময়ই জ্বালানি সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে, অথচ রাশিয়া একের পর এক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছে। প্রকৃতপক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষের সাথেই ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন যদি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করে, তবে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে তথ্য ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে।

 

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো বন্ধ রাখতে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। জেলেনস্কি অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থামাতে প্রস্তুত, যদি না মস্কোও ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডগুলোতে হামলা চালানো বন্ধ রাখে। কিন্তু সমস্ত সমঝোতার আশ্বাসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কিয়েভের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার এই সাম্প্রতিক হামলা চলমান যুদ্ধকে পুনরায় এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর