যুক্তরাজ্যে
উগ্র ডানপন্থী চরমপন্থা ও বর্ণবাদী সন্ত্রাসবাদের
এক আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব
ক্রমেই সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক ভাবনায়
রূপ নিচ্ছে বলে মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ। লন্ডনে অবস্থিত এমআইফাইভের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক দিকনির্দেশনা
মূলক বক্তৃতায় সংস্থাটির শীর্ষ প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম মঙ্গলবার এই বিষাদময় তথ্য
তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদের বর্তমান ভয়াবহ প্রবণতাটি মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তরুণ প্রজন্মকে আশঙ্কাজনকভাবে গ্রাস করছে।
এমআইফাইভ
প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, আল-কায়েদা এবং
আইএসআইএস (দায়েশ) এখনো বৈশ্বিক হামলা পরিচালনা ও তাদের অনুসারীদের
অনুপ্রাণিত করার পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী চরমপন্থা,
যা প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসী হামলায় রূপ নিচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের একটি অবাক করা উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান যে, যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মৌলবাদী হয়ে ওঠা মাত্র ১৩ বছর বয়সী
এক চরমপন্থী তরুণকে তাদের নিবিড় নজরদারিতে আনেন। এই তরুণকে নিয়ে
তদন্ত চালিয়ে প্রাপ্ত বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ব্রিটেনের এক আন্তর্জাতিক মিত্র
দেশ তাদের নিজস্ব মাটিতে একটি বড় ধরনের প্রাণঘাতী
সন্ত্রাসী হামলা রুখে দিতে সক্ষম হয়।
সন্ত্রাসবাদের
পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে বলতে গিয়ে ম্যাককালাম জানান, স্নায়যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বর্তমানে তারা বহিরাগত শত্রু রাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ সংস্থান ও বাজেট বরাদ্দ
করছেন। বিদেশি শত্রুপক্ষ থেকে আসা হুমকির পরিমাণ আগের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের দৃষ্টিতে রাশিয়াই এখনো যুক্তরাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় ও প্রধান
আক্রমণকারী শক্তি। রাশিয়া বর্তমানে সামরিক জোট ন্যাটোর সাথে সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে 'হাইব্রিড যুদ্ধ' বা ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে
যাচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে ইউরোপজুড়ে
প্রায় এক হাজার কৌশলগত
স্পাই বা রুশ গুপ্তচরকে
বহিষ্কার করায় ক্রেমলিনের গোপন কার্যক্রম বহুলাংশে ভেস্তে গেছে। ফলে পুতিনের প্রশাসন বাধ্য হয়ে তাদের হামলা বাস্তবায়নে ভাড়াটে প্রক্সি অপরাধীদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে ব্যবহার করছে।
একই
সাথে ইরানও যুক্তরাজ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গত এক বছরে
ইরান-সংযুক্ত সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে অন্তত ৫০ জনেরও বেশি
ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বক্তব্যে সবচেয়ে নতুন ও ভীতিকর দিকটি
ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি
ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা। উগ্রপন্থীরা এখন হামলা চালায় এবং নজরদারি চালাতে এআই-চালিত ড্রোন ব্যবহারের মতো ভয়ানক কৌশল রপ্ত করছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো সহিংস উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী জৈবাস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে এআই-এর অপব্যবহার করতে
পারে। যদিও এই প্রযুক্তিগত ঝুঁকিটি
এখনো পুরোপুরি বাস্তবে রূপ নেয়নি, তবে এটি মোকাবিলায় এমআইফাইভ, জিসিএইচকিউ ও এমআইসিক্স দেশটির
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সাথে গভীরভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সূত্র: এমআইফাইভ (MI5)