মেক্সিকোর
শক্তিশালী ও সশস্ত্র ড্রাগ
কার্টেল বা মাদক সিন্ডিকেটগুলোর
মধ্যে ক্রমাগত আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা ট্রেজো। তিনি এই ক্রমবর্ধমান হুমকিকে
দেশের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক অত্যন্ত গুরুতর
বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি
প্রকাশিত একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেলের বেশ কিছু সক্রিয় সদস্য ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে অংশ নিয়ে ড্রোন যুদ্ধকৌশলের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মূলত সেখান থেকে অর্জিত ড্রোন পরিচালনার সামরিক কৌশল পরবর্তীতে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ করার লক্ষ্যেই তারা সেখানে যোগ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার
রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে
জাতীয় প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা ট্রেজো এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়
সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ড্রাগ কার্টেলগুলোর এই ড্রোন নির্ভরতা
পুরো দেশজুড়ে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে গত বছর থেকেই
মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনী বিপুল সংখ্যক স্থায়ী ও মোবাইল অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ক্রয় করে কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন করেছে। মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
সমগ্র সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা
জোরদার করার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর
সাথে যৌথভাবে বিশেষ সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মাদক
সিন্ডিকেটগুলোর কাছে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির পৌঁছানোর প্রমাণ হিসেবে গত ৪ ও
১১ অক্টোবরের অভিযানের কথা উল্লেখ করে মেক্সিকোর সামরিক বাহিনী। মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য সিনালোয়ায় যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫টি আধুনিক ফাইবার অপটিক চালিত ড্রোন জব্দ করা হয়। এই ধরনের বিশেষ
ফাইবার অপটিক ড্রোন প্রযুক্তি সাধারণত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতে দেখা যায়। ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে সিনালোয়া কার্টেল দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ার পর বর্তমানে পুরো
সিনালোয়া রাজ্যটি এক রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ
মাদক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা
সচিব ট্রেজো আরও জানান যে, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির অপব্যবহার কেবল উত্তর মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত আগস্ট মাসে
দেশটির গেরেরো রাজ্যের ছোট শহর লোস বায়াডোসের বাসিন্দারা সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার মুখে পড়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
তিনি
ব্যাখ্যা করে বলেন যে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলো মূলত বাজার থেকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত সাধারণ ড্রোন কিনে নেয়। পরবর্তীতে সেগুলোতে বিশেষ সামরিক পরিবর্তন এনে বিস্ফোরক যুক্ত করে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। তবে কার্টেলগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরি করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।