গাজীপুরের
টঙ্গীর বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একটি বহুতল ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই আগুনের খবর
পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সমন্বিত কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের আরও অন্তত ৭টি অতিরিক্ত ইউনিট ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের খবর
ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী
ও কারখানার কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গীর
শিল্পাঞ্চলের বেক্সিমকো রোড এলাকার ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানার ভেতরের ভবনে বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে
আগুনের সুত্রপাত ঘটে। স্থানীয় ও কারখানা সূত্রে
জানা যায়, চারতলা বিশিষ্ট ভবনটির চারতলায় প্রথম আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে
পান সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মীরা।
ভবনটিতে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ও ওষুধ তৈরির
রাসায়নিক কাঁচামাল সংরক্ষিত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে
পুরো ওষুধ তৈরির কাঁচামালের গুদাম ও চারতলার সংলগ্ন
এলাকাগুলোতে। আগুনের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ফায়ার সার্ভিস সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম দফায় ইউনিটগুলো পাঠায়। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান যে, সকাল ১০টা ২০ মিনিটে চারতলা
ভবনের ওপরের তলাতেই আগুনের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল। সেখানে সংরক্ষিত ওষুধ তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিক ও দাহ্য কাঁচামাল
থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভয়াবহ রূপ
ধারণ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে
পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের
সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি
হতে পারে, সে বিষয়ে ফায়ার
সার্ভিসের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির খবর
পাওয়া যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত
পরিমাণ জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কারখানার আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখতে এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।