ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামে ছুরিকাঘাতে মা নিহত, বাবা আহত : ছেলে আটক


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:৪২ পিএম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম শোভনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নগামী ‘ভাইরাল সড়ক’ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হলেও সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁর মা-বাবা।


স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা শোভনকে নিতে তাঁর বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শোভন ঘর থেকে বের হয়ে ছুরি দিয়ে তাঁর মায়ের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাবা এগিয়ে এলে তাঁকেও পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি।


পরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


ঘটনাটি এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খলিলগঞ্জের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, অভিযুক্তের কারণে তাঁর কলেজশিক্ষক বড় ভাইকেও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। যে মা ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই মাকেই ছেলের হাতে প্রাণ দিতে হলো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


এ ঘটনা সমাজে মাদকের বিস্তার ও সহজলভ্যতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন আব্দুল কাদের। কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছি। তাঁকে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।”


পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর