নীলফামারীর সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাহরিয়ার ফাহিম আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নিজের উদ্ভাবিত রোবোটিক্স প্রকল্প উপস্থাপন করে এ সাফল্য পায় সে। এর আগে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় আরও দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছে ফাহিম। এবার তার লক্ষ্য মিশরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সেগি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অষ্টম ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশনের আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেয় ফাহিম। সেখানে নিজের উদ্ভাবিত ‘অল মিলিটারি রোভার’ প্রকল্প উপস্থাপন করে রোবোটিক্স বিভাগে স্বর্ণপদক অর্জন করে সে।
এর আগে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ স্টেম ইনভেনশন অ্যান্ড ইনোভেশন-২০২৬ এবং মালয়েশিয়ার সাবাহতে অনুষ্ঠিত বোর্নিও ইনোভেশন অ্যান্ড ক্রিয়েটিভিটি কম্পিটিশন-২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করে ফাহিম। সব মিলিয়ে পরপর তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে এই শিক্ষার্থী।
ফাহিম শুধু শিক্ষার্থীই নয়, সে অ্যারোস্পেস গবেষণা ও রোবোটিক্সকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ঊর্ধ্বগামী অ্যারোস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী গবেষণায় তার সম্পৃক্ততা তরুণ বয়সেই প্রযুক্তিনির্ভর কাজের প্রতি আগ্রহের পরিচয় দিচ্ছে।
পরপর তিনটি আন্তর্জাতিক আসরে স্বর্ণপদক জয়ের এই সাফল্যে সৈয়দপুরসহ দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রযুক্তি ও রোবোটিক্সে নিজের দক্ষতা তুলে ধরেছে ফাহিম।
তার এ অর্জনে উচ্ছ্বাস ও গর্ব প্রকাশ করেছেন লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন আলহাজ মো. শফিয়ার রহমান সরকার এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও তার সাফল্যে আনন্দিত।
জানা গেছে, এবার ফাহিমের পরবর্তী লক্ষ্য মিশরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা। আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মিশরের কায়রো ও আসওয়ানে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পর নতুন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ফাহিম। রোবোটিক্স ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে তার এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে আরও নতুন অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।