তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম হাল্ক টিভির প্রধান কার্যালয়ে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এর পরপরই চ্যানেলটির টেলিভিশন সম্প্রচার এবং ইউটিউবে সরাসরি অনুষ্ঠান প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে আটক করার পাশাপাশি চ্যানেলটি পরিচালনার দায়িত্বে নতুন একজন সরকারি প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, আর্থিক অপরাধের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে হাল্ক টিভির কার্যালয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত চ্যানেলটির মালিকের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার সরকারের কঠোর সমালোচনা করা গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে টানা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ দেখা হচ্ছে।
হাল্ক টিভির বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এক্সে জানান, শুরুতে কার্যালয়ে ঢোকার সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। চ্যানেলটিকে দেশটির প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়, যা প্রায়ই ক্ষমতাসীন একে পার্টি সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে থাকে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ঘুষ গ্রহণ, দরপত্রে কারসাজি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে হাল্ক টিভির চেয়ারম্যান জাফের মাহিরোগলুর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এক ভিডিও বার্তায় একে তুরস্কের জন্য একটি ‘অন্ধকার দিন’ উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনগণের সত্য জানার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইস্তাম্বুল বার অ্যাসোসিয়েশন এবং বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধান বিরোধী নেতা ওজগুর ওজেল এই পদক্ষেপকে ‘দুর্বল ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভোরবেলা পুলিশ পাঠিয়ে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা স্বৈরাচারী শাসনেরই বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক অধিকার সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান বর্তমানে ১৬৩তম। সংগঠনটি জানায়, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ জাতীয় সংবাদমাধ্যম সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। (সূত্র: বিবিসি)