যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য উইসকনসিনের সাউক জেলায় একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জেলার রীডসবার্গ শহরের কাছে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সাউক জেলা শেরিফের (প্রধান আইন কর্মকর্তা) দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে বুধবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বার্তা পৌঁছালে শেরিফের প্রতিনিধি ও জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় শেরিফ কর্মকর্তারা জানান, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু অবস্থান করছিল। ফ্লাইটটি উইসকনসিনের কেনোশা শহর থেকে মেনোমোনির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। বিমানটি একটি দুর্গম ঘন বনাঞ্চলের ভেতর বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার অভিযানের সময় বিমানে থাকা ছয়জন আরোহীর কারও প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি; ঘটনাস্থল থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়ার সুরক্ষার স্বার্থে নিহতদের পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত উড়োজাহাজটি পাইপার পিএ-৪৬ মডেলের একটি ছোট বিমান ছিল।
এদিকে সড়ক ও আকাশপথ নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানায়, ২৪ হাজার ফুট উঁচুতে উড্ডয়নকালে পাইলট বিমানে অতিরিক্ত বরফ জমার (আইসিং) কারণে সমস্যার কথা জানিয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে দ্রুত নিচে নামার অনুমতি চেয়েছিলেন।
নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পর বিমানটি ডান দিকে মোড় নিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। তবে একপর্যায়ে বিমানটির নিচে নামার গতি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে এবং একসময় ট্র্যাকিং সিস্টেম ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে এর সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। (সূত্র: এবিসি নিউজ)