যুক্তরাষ্ট্রের
প্রশাসনিক কেন্দ্র হোয়াইট হাউসে নাটকীয়তার মধ্যে পদ হারালেন নবনিযুক্ত
প্রেস সেক্রেটারি কেটি জ্যাকারিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
থেকে 'অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে' বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
পেশাগত যোগ্যতা ও আইনি ডিগ্রি
নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও জনসমক্ষে নানামুখী
সমালোচনার মুখে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার
পরামর্শ দেওয়ার পরপরই এই পদক্ষেপ সামনে
এল।
সাংবাদিকদের
মুখোমুখি হয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে কেটি জ্যাকারিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার বর্তমান পদের মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প তাকে খোলামেলাভাবে বলেন, যে কাজে একজন
মানুষ মানসিকভাবে সুখী হতে পারেন না, সেখানে অবস্থান করা কঠিন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে এই পদের
কোনো দায়িত্বই সহজ নয়। তাই তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জ্যাকারিয়াকে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করার এবং পুরো অবস্থানটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্টের
এমন অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া হোয়াইট হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত
করা হয় যে কেটি জ্যাকারিয়া
প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
সরে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,
অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘটে যাওয়া এই রাজনৈতিক ঘটনার
সূত্রপাত হয়েছিল চলতি সপ্তাহের সোমবার, যখন জ্যাকারিয়া নতুন প্রেস секрета হিসেবে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সরকারি সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
পরবর্তী
সময়ে জ্যাকারিয়া নিজেই গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, আগের সপ্তাহের বুধবার তাকে প্রেস সচিবের ভূমিকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় এবং শুক্রবার ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বয়ং ট্রাম্প এক আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর
নিয়োগের ঘোষণা প্রকাশ করেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় ট্রাম্পের সেই প্রাথমিক বার্তাকে কেন্দ্র করে, যেখানে জ্যাকারিয়াকে পেশাদার 'আইনজীবী' হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল।
সোশ্যাল
মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে জ্যাকারিয়ার
আইনজীবী হওয়ার দাবি নিয়ে দ্রুত তথ্য যাচাই শুরু হয়। তিনি সত সত্যি আইনজীবী
হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় 'বার পরীক্ষায়' উত্তীর্ণ হয়েছেন কি না—তা
নিয়ে জোর গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড়
ওঠে। একপর্যায়ে সব বিতর্ক ও
জল্পনা স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেটি
জ্যাকারিয়া নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি কখনো
বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এই সত্য প্রকাশের
পর প্রশাসনিকভাবে তার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তাকে পদচ্যুত হতে হলো।