মধ্যপ্রাচ্যে
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জোরালো অবরোধে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে
ইরানের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার
মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তেল খাতই নয়, ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অভিযানে শত শত মিলিয়ন
ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করা সম্ভব হয়েছে, যা ইসলামি বিপ্লবী
গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ বেতন কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব
ফেলেছে। শুক্রবার এক সামরিক কার্যালয়ের
মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
এই
সমন্বিত আইনি ও সামরিক পদক্ষেপগুলো
মূলত 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামক ৩৮ দিনব্যাপী এক
ব্যাপক সামরিক অভিযানের পরবর্তী বর্ধিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভিযানের মূল
লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক বাজেট সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, ধ্বংসপ্রাপ্ত অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিত্র বা মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে
আর্থিক সহায়তা প্রদান থেকে তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করা।
সেন্টকমের
শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও সরকারি সংস্থার
সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনটি মূল খাতে তেহরানকে কোণঠাসা করেছে। ক্ষেত্রগুলো হলো জ্বালানি তেল রপ্তানি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মুদ্রা অর্থায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নিজস্ব বেতন সুবিধা প্রদান। এক বার্তায় তিনি
স্পষ্ট করেন যে, ধারাবাহিক নৌ ও অর্থনৈতিক
অবরোধের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ইরানকে
অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার
সমপরিমাণ দামি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে সরাসরি বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে।
কমান্ডারের
বক্তব্য অনুসারে, সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে রপ্তানি করা এই বিলিয়ন ডলার
তহবিল মূলত আঞ্চলিক অস্ত্রধারী মিলিশিয়া গোষ্ঠী, অপরাধমূলক চোরাচালান নেটওয়ার্ক এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর
ঘাঁটিতে হামলার মূল অর্থায়ন উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত। আন্তর্জাতিক এই পদক্ষেপের কারণে
সে পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া গেছে।
একই
সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সির সমন্বিত অভিযানে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো গোপন ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা
হয়েছে। বিপুল অংকের এই অর্থ জব্দ
হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধ চালনা কিংবা সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো নতুন করে তৈরি করার ক্ষমতা একেবারেই সীমিত হয়ে এসেছে।
কুপার
আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী এই আর্থিক অবরোধের
নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এখন ইরানের নিজস্ব আইআরজিসির মতো এলিট বাহিনীগুলোর ভেতরে প্রকাশ পাচ্ছে। বর্তমানে সামরিক সদস্য ছাড়াও দেশটির জ্বালানি, অবকাঠামো নির্মাণ, উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা
খাতের লাখ লাখ বেসামরিক কর্মীর স্বাভাবিক পেনশন, বেতন ও আনুতোষিক পরিশোধ
করা তেহরান প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
একই
আর্থিক মন্দার ঢেউ আছড়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর। জানা গেছে, কিছু সংগঠন তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের ভাতা স্থগিত করে সেই অর্থ আইআরজিসির কেন্দ্রীয় তহবিলে স্থানান্তরে বাধ্য হচ্ছে। কুপারের দাবি অনুযায়ী, স্বয়ং আইআরজিসিও তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক ও পদাতিক বাহিনীর
মাসিক বেতন চুকাতে হিমশিম খাচ্ছে, যা সরাসরি তাদের
নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্র ভঙ্গুর অবস্থাকে ফুটিয়ে তোলে। সমুদ্রসীমায় একমাত্র বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত মানবিক সহায়তা সরঞ্জাম ছাড়া ইরানের পণ্যবাহী বা বাণিজ্যিক নৌযান
চলাচল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।