ব্যস্ততম
দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় সূচির পাশাপাশি ঘরের সাধারণ কাজকর্ম সামলাতে তিনি তার পূর্বসূরি পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়েও অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪
ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় করেন বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
জাপানের
প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সানায়ে তাকাইচি গত বুধবার দেশটির
পার্লামেন্টে নিজেদের কর্মঘণ্টা ও সময় ব্যবস্থাপনা
নিয়ে আলোচনা চলাকালে খোলামেলাভাবে বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের গোসল সম্পন্ন করা, নাশতা তৈরি করা এবং থালাবাসন ধোয়ার কাজ তিনি নিজ হাতে করেন। প্রসাধনী বা মেকআপ নেওয়ার
পর্বটি বাদ দিয়েও এসব গৃহস্থালি কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় তাকে তিন থেকে চার ঘণ্টা বাড়তি সময় কাটাতে হয়।
নিজের
কাজের প্রতি চরম নিবেদিতপ্রাণ ও 'ওয়ার্কাহোলিক' হিসেবে
পরিচিত তাকাইচি এর আগেও আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছেন। তিনি জানান যে, কাজের চাপে রাতে তিনি মাত্র ২ থেকে ৪
ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পান। এমনকি পরিস্থিতি বিচারে কোনো কোনো দিন ভোররাত ৩টায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করেন তিনি।
জাপানের
প্রথাগত সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা
সাধারণত অত্যন্ত কঠোর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণী
পর্যায়ে সেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আশঙ্কাজনকভাবে কম। নিম্নকক্ষ নির্বাচনে নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশ কম হওয়ায় ক্ষমতার
শীর্ষবিন্দুতে তাকাইচির এই অবস্থান এবং
একই সঙ্গে চিরাচরিত গৃহস্থালি কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
পার্লামেন্ট
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে উপস্থিত থাকার প্রথাগত বাধ্যবাধকতা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য প্রশ্ন
তুললে সানায়ে তাকাইচির নিজস্ব সময় ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত কথাগুলো উঠে আসে। জাপানি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানকে দিনে টানা
৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিরোধী
আইনপ্রণেতাদের কড়া প্রশ্নের মুখমুখী হতে হয়।
পার্লামেন্টে
বিষয়টি তুলে ধরে জাপান ইনোভেশন পার্টি বা ‘নিপ্পন ইশিন নো কাই’-এর
অন্যতম আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী যেখানে বছরে ৫০ দিন এবং
জার্মানির চ্যান্সেলর মাত্র ১৩ দিন পার্লামেন্ট
অধিবেশনে যোগ দেন, সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে গড়ে বছরের ৭২ দিনই পার্লামেন্টে
সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। ফুজিতা মনে করেন, দেশের শীর্ষ নেতাকে পার্লামেন্টের ভেতরে এভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার এ ধারাটি বৈশ্বিক
মানদণ্ড ও আধুনিক সময়
ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের কাজের ধরন তুলে ধরেছেন সানায়ে তাকাইচি। কর্মক্ষেত্র থেকে রাতে বাড়ি নিয়ে আসা নথি ও পার্লামেন্টের জটিল
প্রশ্নোত্তর নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়েই তার রাত কেটে ভোর হয়ে যায়। তবে গভীর রাতে এই কাগজের স্তূপ
পর্যালোচনা করা তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপভোগ করেন বলে জানান। একই সঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন যে, গৃহস্থালি ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার
ধাক্কায় দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প নিয়ে শান্ত মাথায় ও গভীরভাবে চিন্তা
করার মতো মানসিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন সময় বের করা তার জন্য প্রতিদিন কঠিন হয়ে পড়ছে। -সূত্র: জাপান টাইমস