কক্সবাজারের
নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও বিনোদনের অন্যতম
মূল আকর্ষণ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত জনপ্রিয় 'টুপটুপ' রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৭
অক্টোবর) এই অগ্নিকাণ্ডের শিকার
হয়ে প্রাণহানির পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি দগ্ধ ও গুরুতর আহত
হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে নিহতদের কারো নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও ফায়ার
সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের
তৎপরতায় বেশ কয়েকজনকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোতেই আচমকা রিসোর্টটির একটি অংশ থেকে আগুনের কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকশে উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে
অবস্থানরত পর্যটক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে
তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয় এবং আত্মরক্ষার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের
২টি শক্তিশালী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে ও আটকে পড়া
মানুষদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
ফায়ার
সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল অগ্নিকাণ্ডের পর
ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আশঙ্কাজনক ও দগ্ধ অবস্থায়
উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, দগ্ধদের মধ্যে অন্তত দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ মারাত্মকভাবে
পুড়ে গেছে।
বিশ্বের
দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এই মেরিন ড্রাইভ
অঞ্চলের রিসোর্টগুলো মূলত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রিয় ও নিয়মিত ভ্রমণের
স্থান। হঠাৎ করে এমন ভয়াবহ অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণহানির ঘটনায় পুরো মেরিন ড্রাইভ এলাকা ও আশপাশের অন্যান্য
রিসোর্ট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
হয়েছে।
ঘটনাস্থলে
নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শিখা যাতে পার্শ্ববর্তী কোনো ভবন, রিসোর্ট বা প্রাকৃতিক গাছপালায়
ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে
জন্য চারদিক থেকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পানি স্প্রে করে ফায়ার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন অনেকটা
নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। তবে কী কারণে বা
কোথা থেকে আগুনের ভয়াবহ সূত্রপাত ঘটেছে এবং সামগ্রিকভাবে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা আগুন পুরোপুরি
নির্বাপণ ও উদ্ধার অভিযান
শেষ হওয়ার পর তদন্ত করে
নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।