সনাতন
ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর
থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবন্দনার মূল আবহ তৈরি হয়। তবে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বাংলা পঞ্জিকা ও তিথিচক্রের বিশেষ
গাণিতিক বিন্যাসের কারণে এ বছর মহোৎসবে
সপ্তমী তিথির ব্যাপ্তি পরপর দুই দিন স্থায়ী হচ্ছে।
পঞ্জিকাবিদদের
গণনা অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার (১৭
ও ১৮ অক্টোবর) এই
দুই দিন জুড়ে মহাসপ্তমীর নিয়মকানুন ও পূজা অনুষ্ঠিত
হচ্ছে। এর ফলে আজ
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে নবপত্রিকা
স্থাপন, স্নানযাত্রা, দেবীর প্রাতঃকালীন আবাহন ও আরাধনাসহ শাস্ত্রীয়
নানা আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপেই মহামায়ার শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করতে ভক্তদের সমাগম দেখা গেছে।
ধর্মীয়
বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
অনুসারে, এ বছর দেবী
দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছে ‘ঘোড়ায়’ বা তুরঙ্গে চড়ে।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী ঘোড়ায় দেবীর আগমনকে অশুভ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সামাজিক অস্থিরতা,
রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক উত্তেজনার
লক্ষণ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, উৎসবের সমাপনী দিনে দশমীতে দেবীর বিদায় বা গমন ঘটবে
‘নৌকায়’ চড়ে। প্রচলিত শাস্ত্রমতে এর ফল হিসেবে
প্রবল বন্যা, অতিবৃষ্টি কিংবা খরা দেখা দেওয়ার আশঙ্কার বার্তা বহন করে।
তিথিচক্রের
এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া
দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সুর ও অসুরের লড়াইয়ের
প্রতীক এই শারদীয় দুর্গোৎসবের
আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এ বছর দেশের
আটটি বিভাগের মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি
স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে
উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে।