হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দরের আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে যাত্রীরা বিমানবন্দরে তাঁদের লাগেজ কোথায় এবং কীভাবে স্থানান্তর করা হচ্ছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের দৃশ্য স্থাপিত মনিটরে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এতে লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করার সময় যাত্রীরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
বেবিচক জানিয়েছে, লাগেজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া, বাছাই করা এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম মনিটরের মাধ্যমে দেখা যাবে। ফলে লাগেজ পরিবহন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যাত্রীদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হবে।
বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো, দেরিতে পাওয়া কিংবা হ্যান্ডলিং কার্যক্রম নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগ কমাতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানবন্দরের লাগেজ পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে। তবে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে লাগেজ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নজরদারি ও পরবর্তী পদক্ষেপের কার্যকারিতার ওপর।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বহু যাত্রী যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন, যাঁদের জন্য নিরাপদে লাগেজ সংগ্রহ করা ভ্রমণ-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন ব্যবস্থার ফলে যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের দৃশ্য দেখতে পারবেন এবং তাঁদের লাগেজ বেল্টে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন।
বেবিচক আরও জানিয়েছে, যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সরাসরি দৃশ্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যাত্রীরা তাঁদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি তথ্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।