সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে, তাদের দৈনন্দিন অভাব-অভিযোগ জানতে এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যায় তাৎক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করতে নিজ বাড়িতেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই বাউফল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও ইউনিয়ন থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদ সদস্যের নিজ বাড়িতে উপস্থিত হন। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও ধৈর্য সহকারে সবার কথা শোনেন এবং সম্ভাব্য আইনি সমাধান ও প্রতিকারের পথ বের করে দেন।
এ সময় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা সাধারণ মানুষ জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ, পারিবারিক নানা কলহ, এমনকি চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তার অভাব ও অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আইনসম্মত উপায়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।
জনপ্রতিনিধির এমন সরাসরি উপস্থিতি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে স্থানীয়দের বিভিন্ন সংকট, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জনমানুষের প্রত্যাশার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করে তোলে। সংসদীয় কার্যক্রম ও বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজের বাইরেও সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাদের না পাওয়ার বেদনা উপলব্ধি করা এবং দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো যে একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা এই যোগাযোগের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে।
বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে জমিজমা নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক জটিলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের সরাসরি পরামর্শ এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের এই মাধ্যমটি দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও ভরসারস্থল হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে বাউফলের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা ঝামেলার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষ যেন যেকোনো বিপদে সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পান এবং সব সমস্যার একটি ন্যায়সংগত সুরাহা তৈরি হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের এই ইতিবাচক উদ্যোগ ভোটার ও জনপ্রতিনিধির মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আস্থার সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় করছে।