ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত অত্যন্ত গোপনীয় ও সুরক্ষিত ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ নামের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
তবে চলমান এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে নতুন যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে ওই সাক্ষাৎকারে।
ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনের মূল ও প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্রের নাগাল থেকে দূরে রাখা। কারণ তার জোরালো বিশ্বাস, ইরানের উগ্র শাসকদের হাতে এ ধরনের মারণাস্ত্র থাকলে তারা তা নিশ্চিতভাবেই ব্যবহার করবে।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের বহু গভীরে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লাখ লাখ টন শক্ত পাথরের নিচে চাপা পড়ে আছে। এখন আমরা সরাসরি ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’-এর দিকে কঠোর নজর দিচ্ছি। সেখানে আমাদের অভিযান চালাতে হতে পারে। আমরা ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় জোরালো হামলা চালাব এবং খুব দ্রুতই সেটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব।
উল্লেখ্য, পিক্যাক্স মাউন্টেন হলো তেহরানের খুব কাছাকাছি অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ গোপন সামরিক স্থাপনা। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে থামিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের হামলার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জবাব দিয়ে বলেন, আমি কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না। এর বিন্দুমাত্র কোনো প্রয়োজন নেই। এছাড়া দেশটিতে সরাসরি কোনো স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনাও আমাদের নেই বলে তিনি আবারও নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাৎকারে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা বহুল পরিচিত ‘মাদার অব অল বম্বস’ বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় এই বিশেষ বোমা ব্যবহারের অনুমতি তিনি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এটি একটি প্রচলিত শক্তিশালী বোমা মাত্র, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।