গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুমন সরকার (৩০) ও মেহেরাব আহমেদ রাব্বি (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকার খেরতৈল ও বাহাদুর খান গেটের মদিনাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুমন সরকারকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমন সরকার ও মেহেরাব আহমেদ রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে সুইচ গিয়ার ও চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুমন সরকার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, স্থানীয় যুবদল নেতা বেলাল খানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগেও ছিনতাইয়ের অভিযোগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুমন সরকার। ওই ঘটনায় তিনি কারাভোগও করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। তবে এসব মামলার সংখ্যা, ধরন ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সুমনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং অতীতের মামলা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এফ) ধারায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৪। এ মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে সুমন সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উত্থাপিত মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং অতীতের মামলা-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে যুবদল নেতা বেলাল খানের সঙ্গে তাঁর কথিত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নিয়েও বেলাল খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা এবং ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আকাশজমিন / আরআর