অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি উগ্র দখলদারদের মাধ্যমে এক অভিজ্ঞ মার্কিন নারী আলোকচিত্র সাংবাদিককে নির্মমভাবে প্রহার করার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘটনাটিকে অত্যন্ত পীড়াদায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে কঠোর হস্তে দমন করতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন।
আক্রান্ত আলোকচিত্র সাংবাদিক হাইডি লেভিনের ওপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের বেআইনি তাণ্ডব রুখে দিতে অব্যাহত তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পশ্চিম তীরে কোনো ধরনের নতুন বিতর্ক, পারস্পরিক সংঘাত কিংবা নতুন কোনো সংকটের সৃষ্টি দেখতে চান না।
ঘটনার সার্বিক সত্যতা ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইতোমধ্যে দূতাবাসে যোগাযোগ শুরু করেছে। রুবিও জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ইসরায়েলি দখলদারদের এক সংঘবদ্ধ চক্রের হামলায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত হয়েছেন মার্কিন নাগরিক হাইডি লেভিন, যা দেখতে ভীষণ কুরুচিপূর্ণ এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইসরায়েলি দখলদারদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রুবিও স্পষ্ট করেন, সেই সিদ্ধান্ত আর বর্তমান সহিংসতাকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। টিভিতে দেখা দৃশ্য এবং সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হচ্ছে, ট্রাম্প কোনোভাবেই তা সমর্থন করেন না। অধিকৃত এলাকায় চলমান জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে সংঘাতের ঘটনা তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। হাকাবি বলেন, একজন নিরস্ত্র নারী আলোকচিত্র সাংবাদিককে এভাবে গণপিটুনি দেওয়া মাস্ক পরা কাপুরুষদের মাধ্যমে সংঘটিত একটি ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। এই হামলার পেছনে যুক্ত প্রতিটি অপরাধীকে সম্পূর্ণ আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখী করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের চিত্র ধারণ করছিলেন হাইডি লেভিন। সেই সময় অস্ত্রধারী ইসরায়েলি উগ্রবাদীদের একটি দল হঠাৎ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা এসে লেভিনকে বেধড়ক পেটায় এবং তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও দামী ক্যামেরা সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী লেভিন জানান, বোতল ও গুলতি বহনকারী ওই উগ্র যুবকরা তাকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে অনবরত লাথি মারতে থাকে, যখন তিনি কেবল নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ বাঁচানোর আকুল চেষ্টা করছিলেন। সূত্র: আনাতোলু এজেন্সি