তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কম্বোডিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কম্বোডিয়ার ভূমিকার প্রশংসা এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের দোলমাবাহচে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় কম্বোডিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, ২০১৮ সালে তৎকালীন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের তুরস্ক সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বৈঠকে তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত তুরস্ক-কম্বোডিয়া ব্যবসায়িক ফোরাম দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের পণ্যের প্রতি কম্বোডিয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশা করছেন তিনি।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা এবং ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পরিচালিত প্রকল্পগুলো জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া তুরস্কের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় কম্বোডিয়ার শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে এরদোয়ান গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে কম্বোডিয়ার সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গাজার জন্য গঠিত শান্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কম্বোডিয়ার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায় তুরস্ক। ফিলিস্তিনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় কম্বোডিয়া ভবিষ্যতেও অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বলতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য পৃথক দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানকে বোঝানো হয়।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের বিষয়ে এরদোয়ান শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই বিরোধ নিষ্পত্তির আশা প্রকাশ করেন তিনি। সীমান্ত সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক মানুষের প্রতি তুরস্কের সহায়তার কথাও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি জানান, কম্বোডিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তুরস্কের কর্মকর্তারা তিন হাজারের বেশি মানুষকে সহায়তা দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপের ওপর তুরস্কের গুরুত্বারোপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে।