ফ্রান্সের
রাজধানী প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলা তীব্র বিক্ষোভ ও চরম নৈরাজ্যের
সুযোগ নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস পরিস্থিতির
সুযোগ নিয়ে মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার
সেবা প্রদানকারী অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে
প্রাপ্ত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরোর
বা বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশাল অঙ্কের অর্থ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমনকি
দোকান তালাবদ্ধ রাখা কিংবা ব্যক্তিগতভাবে পাহারা বসিয়েও প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের কাছ
থেকে কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক সহায়তা বা সাড়া পাওয়া
যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস
টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন
স্টোর, বদি টেলিকম এবং রাফিদ ইলেকট্রনিক। এসব প্রতিষ্ঠানে মূলত মুঠোফোন বিক্রির পাশাপাশি বৈধ উপায়ে মানি ট্রান্সফারের সেবা পরিচালনা করা হতো। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শপগুলোতে মজুত থাকা মূল্যবান গ্যাজেট এবং নগদ অর্থ সম্পূর্ণ লুটে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত
রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তার দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০
হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। কঠোরভাবে দোকান তালাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে হানা দিয়ে সব লুটে নেয়।
অন্যদিকে, অপর ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের দুটি প্রতিষ্ঠানে (ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম)
একযোগে হামলা চালানো হয়। মাত্র তিন মাস আগে চালু করা একটি শপসহ দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০
হাজার ইউরো। তিনি জানান, একটি দোকানের রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো
নগদ ক্যাশ ছিল, যা দুর্বৃত্তরা নিয়ে
গেছে। আকস্মিক এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা এখন পুরোপুরি দিশাহারা।
প্যারিসের
সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েছ অভিযোগ করেছেন যে, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ও মানি ট্রান্সফারের
দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে এই তাণ্ডব চালিয়েছে।
তার মতে, নৈরাজ্যের সঙ্গে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জড়িত থাকার খবর ফরাসি গণমাধ্যমে আসায় আগামী দিনে এটি সে দেশের অভিবাসনবিরোধী
রাজনীতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেককাতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
উল্লেখ্য,
গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষের জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ
নেন। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায়
প্রায় চারশ জনকে আটক করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।