ভারতীয়
বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত
বৃদ্ধি করেছে পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)। শনিবার (১৭
অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা এক ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে এই
বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী,
দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা আগামী
২৪ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে।
প্রাপ্ত
তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে
সংঘটিত একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা
তৈরি হয়। এই ঘটনার জের
ধরে পাকিস্তান গত ২০২৩ সালের
২৩ এপ্রিল থেকে ভারতীয় বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের
জন্য তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ভারত এই হামলায় সরাসরি
পাকিস্তানের জড়িত থাকার জোরালো অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায়
অস্বীকার করে একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক স্বচ্ছ
তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।
পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রতিউত্তরে ভারতও ৩০ এপ্রিল থেকে নিজেদের আকাশসীমা পাকিস্তানি বিমানের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। গত বছরের মে মাসের শুরুতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি শহরে আকস্মিক সামরিক বিমান হামলা চালায়।
এর তাৎক্ষণিক ও
তীব্র জবাবে পাকিস্তান ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে একটি বড় ধরনের সফল
সামরিক পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে এবং ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে আঘাত হানে। ওই তীব্র সংঘাতের
সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা তিনটি
অত্যাধুনিক রাফাল জেটসহ মোট আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি শত্রু ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
টানা
৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের পর
গত বছরের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের
সরাসরি মধ্যস্থতায় দুই দেশ অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়। তবে সামরিক সংঘাত থামলেও আকাশসীমা বন্ধ থাকার এই সিদ্ধান্তের কারণে
তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আর্থিক ও পরিচালনগত ক্ষতির
মুখে পড়েছে ভারতীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত। এর বিপরীতে পাকিস্তানের
বিমান চলাচল শিল্প ও বাণিজ্যিক লাভের
ওপর এই নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক
প্রভাব বেশ সীমিত বলেই সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য,
এর আগেও ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময় পাকিস্তান একইভাবে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওই দুটি ঐতিহাসিক
সংকটের সময়েও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার তুলনায় ভারতীয় বিভিন্ন এয়ারলাইনসগুলোকে অনেক বেশি পরিচালনগত পথ পরিবর্তন ও
আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।