ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবিএসের জরিপ

দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার এখন ঋণগ্রস্ত

অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৩:৫১ পিএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চরম দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপে পড়ে বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহরের চেয়ে গ্রামীণ জনপদের পরিবারগুলোর ওপর এই ঋণের চরম ভার সবচেয়ে বেশি চেপে বসেছে। জাতীয় বেতন কমিশনের বিশেষ অনুরোধে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের এই ভয়াবহ বাস্তব চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে।


বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দৈনন্দিন সংসার চালাতে গিয়ে গ্রামের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ করতে সরাসরি বাধ্য হয়েছে। একই সময়ে শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার ধারদেনার ওপর নির্ভর করে দিন যাপন করেছে। জরিপের উপাত্তে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বর্তমানে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা হলেও বিপরীতে গড় মাসিক খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩১১ টাকায়। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি পরিবারকেই প্রতিদিন মাস শেষে ঘাটতি বাজেট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের এই অস্বাভাবিক বৈষম্য সবচেয়ে বেশি প্রতীয়মান সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে, যেখানে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক খরচ ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে যেখানে জাতীয় পর্যায়ে গড় পারিবারিক সঞ্চয়ের সামান্য হলেও উদ্বৃত্ত থাকত, তা বর্তমানে সরাসরি বড় অঙ্কের ঋণাত্মক ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এ পরিস্থিতিকে দেশের দুর্বল সামষ্টিক অর্থনীতির স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস ধরে সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সঞ্চয় ভেঙে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাদের কোনোমতে টিকে থাকতে হচ্ছে।


বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর পূর্বাভাসের সঙ্গেও এই পরিসংখ্যানটি হুবহু মিলে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, শিল্প খাতে স্থবিরতা এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে দ্রুত বেড়ে ২০২৬ সালে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর