ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার কারণ জানালেন ইশরাক


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৪১ পিএম

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নিজের ও সরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের সময় একদল আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে এলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন ইশরাক। তিনি দাবি করেন, গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হঠাৎ হইচই শুরু করেন এবং মারমুখী অবস্থানে গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।


প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়। সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং তা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল আত্মরক্ষা।


ইশরাক অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনাটির খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এমন দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এতে অভিযানটির মূল উদ্দেশ্য ও অর্জন আড়ালে পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, পুলিশের ভূমিকা এবং ছয়জন অপরাধীকে আটকের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান।


ইশরাক আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়।


তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পেয়ে আসছেন বলে দাবি করেন ইশরাক। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।


তিনি জানান, গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন। জনবল সংকট নিরসন এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হলেও বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি।


ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সর্বশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।


মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের আস্তানা নির্মূল এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কোনো ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইশরাক।


এ সম্পর্কিত আরো খবর