ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৩৮ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখের ঘর। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩ জন। মাসের মাঝামাঝি সময়েই মৃত্যুর এই সংখ্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন মারা যান। মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে রোগীর মৃত্যু হয়।


বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২ হাজার ৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে।


তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮ জন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২০০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, চট্টগ্রামে ১৬১ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৯০ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা রোগটির বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, বাসার ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর