মামুনার রশীদ / : 58
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার অংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসিরুল কুরআন মাহফিল স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা ছাড়পত্র না পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়নি। ফলে প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্যান্ডেল গুটিয়ে নিতে হয়েছে আয়োজকদের।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল থেকে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার পর আয়োজকেরা অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসতে নিষেধ করা হয়।
‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন এ তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে।
মাহফিলের প্রধান আলোচক হিসেবে প্রচারপত্র ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেও সম্মতি দিয়েছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহরও অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে অনুমতির বিষয়ে খোঁজ নিতে শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন আয়োজকেরা। তখনই পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁকে বলা হয়, মাহফিলের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন চেয়ে পুলিশের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে মাহফিল আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফোন করে বিষয়টি জানানো হয় এবং তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি করা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মাহফিল আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান আয়োজকেরা।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, পুলিশের ছাড়পত্র ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেওয়ার পর সেটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ জানান, মাহফিল স্থগিতের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মাহফিলকে ঘিরে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন আয়োজকেরা। অনুষ্ঠান সফল করতে বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল। তবে নির্ধারিত দিনের আগে প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে আয়োজন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়াই অনুমতি না দেওয়ার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।