ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, খালের সীমানা নির্ধারণ ও পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম তদারকিতে ২০টি বিশেষ কমিটি গঠন করছে সরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২০টি জোনে এসব কমিটি কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জোনের কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে গঠন করা হবে একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটিও।
রোববার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অনুশাসন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এসব কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০টি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হবে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকাকে ভিত্তি করে জোনগুলো নির্ধারণ করা হবে।
জোনাল কমিটিগুলোতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা থাকবেন। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মেডিকেল উইংয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও এসব কমিটিতে যুক্ত থাকবেন। কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও তদারকি আরও কার্যকর করতে কমিটিগুলোর সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসব কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে নির্ধারিত এলাকায় সরেজমিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও তদারকি করা, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে মশক নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও পুনঃখনন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
২০টি জোনাল কমিটির কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে উচ্চপর্যায়ের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরকে এ কমিটির আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মনিটরিং কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঢাকা ওয়াসা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটি জোনাল কমিটিগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
সভায় ঢাকা মহানগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন জোরদার করার পাশাপাশি খালের সীমানা নির্ধারণ ও খননকাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।