ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,  ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ মাস পর সহায়ক বই পেয়ে হাসি ফুটল বেলা রানীর মুখে


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:০০ পিএম

গাজীপুর প্রতিনিধি :

দীর্ঘ ১০ মাস প্রয়োজনীয় সহায়ক গাইড বইয়ের অভাবে সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বেলা রানী। অবশেষে সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী এক ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বই হাতে পেয়েছে সে। নতুন বই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে বেলা রানী ও তার পরিবার।


রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে বেলা রানীর হাতে প্রয়োজনীয় সহায়ক বই তুলে দেওয়া হয়। বই পেয়ে তার দীর্ঘদিনের পড়াশোনার সংকট কিছুটা দূর হয়েছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল কিডস স্কুল।


বেলা রানী টঙ্গীর নোয়াগাঁ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সে গ্লোবাল কিডস স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে। নিজের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদানে ভূমিকা রাখছে সে।


গ্লোবাল কিডস স্কুল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সহায়ক বইয়ের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ছিল বেলা রানী। বইয়ের সংকটের কারণে তাকে অন্য সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়তে হতো। বিষয়টি জানার পর তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।


পরে একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির সার্বিক সহযোগিতায় বেলা রানীর হাতে প্রয়োজনীয় সহায়ক বই তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বই পেয়ে খুশি হয় সে। আনন্দ প্রকাশ করেন তার পরিবারের সদস্যরাও। এ সহযোগিতার জন্য গ্লোবাল কিডস স্কুলের পরিচালকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।


বই বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল কিডস স্কুলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী, মোহাম্মদ শামীম রেজা, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


এ বিষয়ে গ্লোবাল কিডস স্কুলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী বলেন, দারিদ্র্য যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব।


তিনি বলেন, একটি বই কেবল পড়াশোনার উপকরণ নয়; এটি একটি শিশুর স্বপ্নপূরণের পথও তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


মাহবুবুর রহমান জিলানী আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার পথ অনেক সহজ হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।


গ্লোবাল কিডস স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে অভাবের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন থেমে থাকবে না। বেলা রানীর হাতে সহায়ক বই তুলে দেওয়ার এ উদ্যোগ অন্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেও মানুষকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর