ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা, বিভাজন এবং তীব্র অসন্তোষ যেন কিছুতেই থামছে না। বর্তমান সরকারের উগ্র ও বিতর্কিত নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ এবার এমন এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, যা খোদ দেশটির প্রভাবশালী মন্ত্রীদেরও কোণঠাসা করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দেশটির নিজের দেশেই চরম জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। খোদ তেল আবিব শহরের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত একটি জনসমাবেশ ও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের তীব্র বাধার মুখে পড়েন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে অপমানজনকভাবে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান বা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি কিংবা বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরে থাকা সরকারবিরোধী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন যে—‘এখানে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ চলবে না’। তাদের এই স্লোগানে পুরো মিলনায়তনের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে।
প্রতিবাদকারীরা কেবল মুখে স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে মাটিতে বসে পড়ে শান্তিপূর্ণ অথচ দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখলে মুহূর্তের মধ্যে তৎপর হয়ে ওঠে মন্ত্রীকে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিকিউরিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালালে একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন ইতামার বেন-গভির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতামার বেন-গভির হলেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক ধারার অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী এক মুখ। তবে তাঁর বর্ণবাদী ও উগ্র রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনবিরোধী নীতির কারণে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে প্রবল বিতর্ক ও ক্ষোভ রয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ বর্তমান সরকারের এই উগ্র ও অগণতান্ত্রিক নীতির ওপর কতটা বব্ধপরিকর ও বিরক্ত।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে, তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অনুষ্ঠানে ঠিক কী কারণে এত বড় বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল এবং এই ধস্তাধস্তির ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হলো। সূত্র: আল জাজিরা