উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 68
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামীকাল মঙ্গলবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভা আয়োজনের পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজশাহীর সাধারণ মানুষ।
সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, আবেগ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ সফরে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।
তারেক রহমানের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান ভূমিমন্ত্রী। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
এ ছাড়া রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে নগরীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন স্থানীয় নেতারা।
সোমবার ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। রাজশাহীবাসীও তাঁকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীতে উন্নয়নকাজ চলছে। কয়েকটি প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে আসছেন। এ সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এর আগে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
এদিন মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মাঠের প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
জনসভা আয়োজন, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজশাহীতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সফরটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।