মিসরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন পর্যটক। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। মঙ্গলবার কায়রো-আসিউত ওয়েস্টার্ন ডেজার্ট রোডের ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় একটি ট্যুরিং বাসের সঙ্গে ভারী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসাম আবদেল গাফফার জানান, দুর্ঘটনার বার্তা পাওয়ার পরপরই দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে ঘটনাস্থলে ২৮টি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। আহত ৩০ জনকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত মহাসড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। একটি শক্তিশালী ক্রেন দিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত বিশাল বাসটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে বিকৃত ইস্পাত ও ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তার ধারে যাত্রীদের বসার আসনগুলো ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং ট্রাকটির পেছনে বাসের ধ্বংসাবশেষ আটকে ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরাম সূত্রে জানা গেছে, আহতরা বর্তমানে গিজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির পেছনে সাধারণত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। মিসরের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত মাসে সিনাই অঞ্চলে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন জর্ডানীয় পর্যটকসহ মোট ২২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর আগে আগস্ট মাসে উত্তর মিসরে কৃষি শ্রমিক বহনকারী দুটি পিক-আপ ট্রাকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হন, যাদের একটি বড় অংশই ছিল কোমলমতি শিশু। (সূত্র: এরাব নিউজ)